ঢাকা , সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিল পাস দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর এনআইডি পেলেন ৫৪ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী র‍্যাবের সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে আরও ১৬৭টি গাড়ি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বাণী নিলামে কেনা সম্পত্তির ওপর ভ্যাট দিতে হবে না: হাইকোর্ট আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস নাম বদলে যাচ্ছে র‍্যাবের, সংসদে বিল ৪১ ব্যাংকের সিএসআরের ২৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাসিনা-রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা এনআইডিসহ সকল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে ‘এক-আইডি’

চার কোটি টাকার বার্ন ইউনিট চালুর আগে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

সাংবাদিক

বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ১০ শয্যার বার্ন ইউনিট ছয় বছরেও চালু হয়নি। ইউনিটটি আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে ২০১৯ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই ইউনিটটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। গত ১৯ আগস্ট বগুড়া সফরে এসে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ইউনিটটি পরিদর্শন করে এটি চালু না করে আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। এর পর বার্ন ইউনিটটি বিলুপ্ত করে সেখানে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বগুড়ার দুটি সরকারি হাসপাতালে গত তিন বছরে আগুনে পোড়া ৩৮৯ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩৮ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পৃথক কোনো বার্ন ইউনিট না থাকায় সার্জারি বিভাগসহ সাধারণ ব্যবস্থাপনাতেই এসব রোগীর চিকিৎসা দিতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া অঞ্চলের আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল চত্বরে ১০ শয্যার ওই বার্ন ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৫ সালে।

২০১৭ সালে এর জন্য অর্থ পাওয়া যায়। গণপূর্ত বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রায় তিন কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে।

নির্মাণ শেষে গণপূর্ত বিভাগ অত্যাধুনিক ১০ শয্যাসহ বার্ন ইউনিটটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম চাইলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি চালু করতে একজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, দুজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার, চারজন ইনডোর চিকিৎসা কর্মকর্তা, চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, দুজন অবেদনবিদ, ১৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ১২ জন অফিস সহায়ক, ১২ জন ওয়ার্ডবয় এবং আটজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। তবে এসব পদ এখনও সৃষ্টি বা পদায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

অথচ ইউনিটটিতে রয়েছে ১০টি অত্যাধুনিক শয্যাসহ দুটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড, অস্ত্রোপচার কক্ষ, পর্যবেক্ষণ ইউনিট, চিকিৎসকদের বিশ্রামকক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চেম্বারসহ বিভিন্ন সুবিধা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব অবকাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল সূত্র জানায়, বার্ন ইউনিট চালুর জন্য সর্বশেষ গত ২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জনবল চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পর ১৯ আগস্ট স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বগুড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম পরিদর্শনে বার্ন ইউনিটও ঘুরে দেখেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকায় ফিরে স্বাস্থ্য সচিব তাদের জানিয়েছেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু করা সম্ভব নয়। বরং বিদ্যমান অবকাঠামোটি আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা অনুযায়ী বার্ন ইউনিটটি বিলুপ্ত করে সেখানে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম বলেন, ভবন বুঝে নেওয়ার পর থেকেই বার্ন ইউনিট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি হয়নি। কোনো যন্ত্রপাতিও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

ডা. মজিদুল আরও বলেন, সর্বশেষ চিঠিতেও ইউনিটটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম চাওয়া হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য সচিব পরিদর্শনে এসে এটি বার্ন ইউনিট হিসেবে চালু না করে আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেছেন।

বগুড়া অঞ্চলে প্রতিবছর অগ্নিদগ্ধ মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট না থাকায় গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এ কারণে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বার্ন ইউনিটটি চালু না হয়ে আইসিইউ ও সিসিইউতে রূপান্তরিত হওয়ার উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৩:৪১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৫ Time View

চার কোটি টাকার বার্ন ইউনিট চালুর আগে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে

আপডেটের সময় : ০৩:৪১:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ১০ শয্যার বার্ন ইউনিট ছয় বছরেও চালু হয়নি। ইউনিটটি আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে ২০১৯ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই ইউনিটটি তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। গত ১৯ আগস্ট বগুড়া সফরে এসে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ইউনিটটি পরিদর্শন করে এটি চালু না করে আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। এর পর বার্ন ইউনিটটি বিলুপ্ত করে সেখানে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বগুড়ার দুটি সরকারি হাসপাতালে গত তিন বছরে আগুনে পোড়া ৩৮৯ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩৮ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল ও মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পৃথক কোনো বার্ন ইউনিট না থাকায় সার্জারি বিভাগসহ সাধারণ ব্যবস্থাপনাতেই এসব রোগীর চিকিৎসা দিতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া অঞ্চলের আগুনে পোড়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল চত্বরে ১০ শয্যার ওই বার্ন ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০১৫ সালে।

২০১৭ সালে এর জন্য অর্থ পাওয়া যায়। গণপূর্ত বিভাগ দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারের মাধ্যমে ২০১৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রায় তিন কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে।

নির্মাণ শেষে গণপূর্ত বিভাগ অত্যাধুনিক ১০ শয্যাসহ বার্ন ইউনিটটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম চাইলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি চালু করতে একজন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, দুজন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, দুজন সহকারী রেজিস্ট্রার, চারজন ইনডোর চিকিৎসা কর্মকর্তা, চারজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, দুজন অবেদনবিদ, ১৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স, ১২ জন অফিস সহায়ক, ১২ জন ওয়ার্ডবয় এবং আটজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন। তবে এসব পদ এখনও সৃষ্টি বা পদায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

অথচ ইউনিটটিতে রয়েছে ১০টি অত্যাধুনিক শয্যাসহ দুটি বিশেষায়িত ওয়ার্ড, অস্ত্রোপচার কক্ষ, পর্যবেক্ষণ ইউনিট, চিকিৎসকদের বিশ্রামকক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের চেম্বারসহ বিভিন্ন সুবিধা। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এসব অবকাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল সূত্র জানায়, বার্ন ইউনিট চালুর জন্য সর্বশেষ গত ২ আগস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জনবল চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পর ১৯ আগস্ট স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বগুড়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম পরিদর্শনে বার্ন ইউনিটও ঘুরে দেখেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ঢাকায় ফিরে স্বাস্থ্য সচিব তাদের জানিয়েছেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে বার্ন ইউনিট চালু করা সম্ভব নয়। বরং বিদ্যমান অবকাঠামোটি আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনা অনুযায়ী বার্ন ইউনিটটি বিলুপ্ত করে সেখানে আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মজিদুল ইসলাম বলেন, ভবন বুঝে নেওয়ার পর থেকেই বার্ন ইউনিট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি হয়নি। কোনো যন্ত্রপাতিও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

ডা. মজিদুল আরও বলেন, সর্বশেষ চিঠিতেও ইউনিটটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম চাওয়া হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য সচিব পরিদর্শনে এসে এটি বার্ন ইউনিট হিসেবে চালু না করে আইসিইউ ও সিসিইউ হিসেবে ব্যবহারের কথা বলেছেন।

বগুড়া অঞ্চলে প্রতিবছর অগ্নিদগ্ধ মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইউনিট না থাকায় গুরুতর রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এ কারণে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বার্ন ইউনিটটি চালু না হয়ে আইসিইউ ও সিসিইউতে রূপান্তরিত হওয়ার উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।