ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলশানে আ.লীগের মিছিল,সকালে ওসি, বিকেলে ডিসি প্রত্যাহার

সাংবাদিক

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মিছিলের ঘটনায় একদিনে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার সকালে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে এবং বিকেলে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সকালে ওসি দাউদ হোসেনকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে যুক্ত করা হয়। আর বিকেলে ডিসি তানভীর আহমেদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে ডিএমপি সদর দপ্তরে যুক্ত করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। তবে আদেশে কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত শুক্রবার গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

গত শুক্রবার গুলশান-১ এলাকায় আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে মিছিল হয়। পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেলসহ দুজনকে আটকের তথ্য জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় একই দিন গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার পর্যন্ত ওই মামলায় ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কয়েকশ নেতা-কর্মীর এমন জমায়েতের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আগে থেকেই ছিল কি না, থাকলে কেন আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে। মিছিলকারীরা ককটেল বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং পরে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও আলোচনায় আসে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে শুক্রবার পুলিশ হয়তো আন্দাজ করতে পারেনি যে ওই সময় ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এ ধরনের কিছু করতে পারে।

এদিকে সোমবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রাজধানীতে আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়টি উঠে আসে। গুলশানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিলের মতো অন্য কোথাও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি ঢাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণ অতিথিদের বাইরে অন্য কারা কী উদ্দেশ্যে হোটেলে অবস্থান করছেন, তা যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৮ Time View

গুলশানে আ.লীগের মিছিল,সকালে ওসি, বিকেলে ডিসি প্রত্যাহার

আপডেটের সময় : ০৪:৫৫:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মিছিলের ঘটনায় একদিনে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার সকালে গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. দাউদ হোসেনকে এবং বিকেলে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সকালে ওসি দাউদ হোসেনকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে যুক্ত করা হয়। আর বিকেলে ডিসি তানভীর আহমেদকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক কারণে ডিএমপি সদর দপ্তরে যুক্ত করা হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা পৃথক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। তবে আদেশে কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত শুক্রবার গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

গত শুক্রবার গুলশান-১ এলাকায় আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে মিছিল হয়। পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেলসহ দুজনকে আটকের তথ্য জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় একই দিন গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা হয়। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার পর্যন্ত ওই মামলায় ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গুলশানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কয়েকশ নেতা-কর্মীর এমন জমায়েতের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আগে থেকেই ছিল কি না, থাকলে কেন আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে। মিছিলকারীরা ককটেল বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং পরে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও আলোচনায় আসে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে শুক্রবার পুলিশ হয়তো আন্দাজ করতে পারেনি যে ওই সময় ওই এলাকায় জুমার নামাজ পড়তে এসে তারা এ ধরনের কিছু করতে পারে।

এদিকে সোমবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রাজধানীতে আওয়ামী লীগের মিছিলের বিষয়টি উঠে আসে। গুলশানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মিছিলের মতো অন্য কোথাও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পুলিশকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় বিট ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি ঢাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সাধারণ অতিথিদের বাইরে অন্য কারা কী উদ্দেশ্যে হোটেলে অবস্থান করছেন, তা যাচাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।