ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়িয়ে এনবিআরের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

সাংবাদিক

দেশের বাজারে আবারও বাড়ছে নিম্নস্তরের বা কম দামি সিগারেটের বিক্রয়মূল্য। রাজস্ব আদায় সমন্বয় এবং তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাজস্ব প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা এবং এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে কম দামি বা নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে চলতি অর্থবছরের বাজেটের পর বাজারপর্যায়ে নিম্নস্তরের এই তামাকজাত পণ্যের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম নির্ধারিত ছিল ৬২ টাকা। এনবিআরের নতুন প্রজ্ঞাপনটি কার্যকর হওয়ার ফলে এই স্তরে সরাসরি ৩ টাকা দাম বৃদ্ধি পেল।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, বাজারপর্যায়ে কেবল নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য সংশোধন করা হলেও অন্যান্য স্তরের তামাকজাত পণ্যের দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের মূল্যতালিকা অনুযায়ী, মধ্যম স্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা দাম ৯২ টাকাতেই বহাল থাকছে। এছাড়া উচ্চ স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম বা অতি-উচ্চ স্তরের সিগারেটের দর আগের মতো প্রতি ১০ শলাকা ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব নির্ধারণ করা থাকবে। বাজারে প্রচলিত উচ্চস্তরের ভোক্তা শ্রেণিকে স্পর্শ না করে কেবল নিম্নস্তরের খুচরা বিক্রয়মূল্যে এই নতুন সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।

এর আগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারের নীতিগত বৈঠকে নিম্নস্তরের তামাকজাত পণ্যের দাম পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করেছিল। সরকারের ওই সিদ্ধান্তের আলোকেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পরিপত্র জারির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিল। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেটে সবকটি স্তরের তামাকজাত পণ্যের দর একযোগে বাড়িয়ে নতুন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই বাজেটীয় সংশোধনের ধারাবাহিকতায় পুনরায় কম দামি সিগারেটের খুচরা মূল্যে বাড়তি পরিবর্তন যুক্ত করা হলো।

অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা প্যাকেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রথমে ৬২ টাকা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে এই একই স্তরে আরও ৩ টাকা বৃদ্ধি করায় তামাকজাত পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম দাঁড়াল ৬৫ টাকায়। মূল বাজেটে মধ্যম স্তরের দর ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা এবং উচ্চ স্তরের তামাকজাত পণ্যের দাম ১৪০ টাকা থেকে উন্নীত করে ১৬০ টাকা করা হয়েছিল। এছাড়া অতি-উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকা প্যাকেটের দর ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন নির্দেশনার পর সারা দেশে এই পরিবর্তিত খুচরা দরপত্র দ্রুত কার্যকর হতে যাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৭:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫১২ Time View

নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম বাড়িয়ে এনবিআরের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

আপডেটের সময় : ০৭:০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বাজারে আবারও বাড়ছে নিম্নস্তরের বা কম দামি সিগারেটের বিক্রয়মূল্য। রাজস্ব আদায় সমন্বয় এবং তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাজস্ব প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা এবং এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে কম দামি বা নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে চলতি অর্থবছরের বাজেটের পর বাজারপর্যায়ে নিম্নস্তরের এই তামাকজাত পণ্যের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম নির্ধারিত ছিল ৬২ টাকা। এনবিআরের নতুন প্রজ্ঞাপনটি কার্যকর হওয়ার ফলে এই স্তরে সরাসরি ৩ টাকা দাম বৃদ্ধি পেল।

প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, বাজারপর্যায়ে কেবল নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য সংশোধন করা হলেও অন্যান্য স্তরের তামাকজাত পণ্যের দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। আগের মূল্যতালিকা অনুযায়ী, মধ্যম স্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা দাম ৯২ টাকাতেই বহাল থাকছে। এছাড়া উচ্চ স্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম বা অতি-উচ্চ স্তরের সিগারেটের দর আগের মতো প্রতি ১০ শলাকা ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব নির্ধারণ করা থাকবে। বাজারে প্রচলিত উচ্চস্তরের ভোক্তা শ্রেণিকে স্পর্শ না করে কেবল নিম্নস্তরের খুচরা বিক্রয়মূল্যে এই নতুন সামঞ্জস্য আনা হয়েছে।

এর আগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সরকারের নীতিগত বৈঠকে নিম্নস্তরের তামাকজাত পণ্যের দাম পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করেছিল। সরকারের ওই সিদ্ধান্তের আলোকেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পরিপত্র জারির মাধ্যমে এটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিল। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ঘোষিত জাতীয় বাজেটে সবকটি স্তরের তামাকজাত পণ্যের দর একযোগে বাড়িয়ে নতুন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই বাজেটীয় সংশোধনের ধারাবাহিকতায় পুনরায় কম দামি সিগারেটের খুচরা মূল্যে বাড়তি পরিবর্তন যুক্ত করা হলো।

অর্থবছরের বাজেটে নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা প্যাকেটের দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রথমে ৬২ টাকা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে এই একই স্তরে আরও ৩ টাকা বৃদ্ধি করায় তামাকজাত পণ্যটির সর্বনিম্ন দাম দাঁড়াল ৬৫ টাকায়। মূল বাজেটে মধ্যম স্তরের দর ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ টাকা এবং উচ্চ স্তরের তামাকজাত পণ্যের দাম ১৪০ টাকা থেকে উন্নীত করে ১৬০ টাকা করা হয়েছিল। এছাড়া অতি-উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের ১০ শলাকা প্যাকেটের দর ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন নির্দেশনার পর সারা দেশে এই পরিবর্তিত খুচরা দরপত্র দ্রুত কার্যকর হতে যাচ্ছে।