ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হতেই পরিবারজুড়ে মাতম

সাংবাদিক

ঘণ্টাখানেক আগেও চারপাশে ছিল বিয়ের আনন্দ। বিয়ের সানাইয়ের শব্দ, স্বজনদের উচ্ছ্বাস, খাওয়া-দাওয়া ও অতিথিদের কোলাহল। বিয়ে অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেকে শুভকামনা জানিয়ে সবাই উঠেছিলেন বাড়ি ফেরার মাইক্রোবাসে। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্ত নিমেষেই রূপ নেয় শোকের মাতমে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মাইক্রোবাসে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন কনের মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনরা। পথে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা চারজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন কনের ভাই-বোন ও মামা। আহত হয়েছেন কনের মা-বাবাসহ চারজন। তাদের অবস্থা গুরুতর।

গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার প্রবাসী মনজুর আলমের ছেলে নিয়াজ মোর্শেদ, মেয়ে মিমতাহ, মনজুর আলমের শ্যালক (কনের বড় মামা) মো. ফেরদৌস আলম এবং মাইক্রোবাসের চালক হাসান মাহমুদ মুন্না। নিহতদের মধ্যে মিমতাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এবং নিয়াজ মোর্শেদ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিজম আক্রান্ত) ছিলেন।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কনের পরিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদে থাকে। শুক্র ও শনিবার সেখানের একটি রেস্তোরাঁয় মনজুর আলমের মেজো মেয়ে তাম্মিন ফায়সা ফাহিমের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ে উপলক্ষে কক্সবাজার থেকে তিনটি মাইক্রোবাসে ৩০ থেকে ৪০ জন স্বজন চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রথম দুটি গাড়ি নিরাপদে ফিরে গেলেও শেষ মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

গাড়িটি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ডভ্যান সজোরে ধাক্কা দিলে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কনের বোন ও মামার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা নিয়াজ মোর্শেদ ও মুন্নাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় কনের বাবা মনজুর আলম ও মা নিলুফা আক্তারও গুরুতর আহত হয়েছেন। চমেক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মনজুর আলমের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিলুফা আক্তার বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বিয়ের আনন্দ শেষ হতে না হতেই পুরো ঈদগাঁও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম।

কনের মামাতো ভাই ইমন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা খুব সুন্দরভাবে শেষ হয়েছিল। ভাবতেই পারিনি এই আনন্দ নিমেষেই এমন বিষাদে রূপ নেবে। সব শেষ হয়ে গেল আমাদের।’

কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ জানান, ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি পুলিশ জব্দ করেছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। চালক ও সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৩ Time View

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হতেই পরিবারজুড়ে মাতম

আপডেটের সময় : ০৪:২৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘণ্টাখানেক আগেও চারপাশে ছিল বিয়ের আনন্দ। বিয়ের সানাইয়ের শব্দ, স্বজনদের উচ্ছ্বাস, খাওয়া-দাওয়া ও অতিথিদের কোলাহল। বিয়ে অনুষ্ঠান শেষে বর-কনেকে শুভকামনা জানিয়ে সবাই উঠেছিলেন বাড়ি ফেরার মাইক্রোবাসে। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্ত নিমেষেই রূপ নেয় শোকের মাতমে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মাইক্রোবাসে কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন কনের মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনরা। পথে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মাইক্রোবাসে থাকা চারজনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন কনের ভাই-বোন ও মামা। আহত হয়েছেন কনের মা-বাবাসহ চারজন। তাদের অবস্থা গুরুতর।

গত শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকার প্রবাসী মনজুর আলমের ছেলে নিয়াজ মোর্শেদ, মেয়ে মিমতাহ, মনজুর আলমের শ্যালক (কনের বড় মামা) মো. ফেরদৌস আলম এবং মাইক্রোবাসের চালক হাসান মাহমুদ মুন্না। নিহতদের মধ্যে মিমতাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এবং নিয়াজ মোর্শেদ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (অটিজম আক্রান্ত) ছিলেন।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কনের পরিবার চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদে থাকে। শুক্র ও শনিবার সেখানের একটি রেস্তোরাঁয় মনজুর আলমের মেজো মেয়ে তাম্মিন ফায়সা ফাহিমের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিয়ে উপলক্ষে কক্সবাজার থেকে তিনটি মাইক্রোবাসে ৩০ থেকে ৪০ জন স্বজন চট্টগ্রামের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রথম দুটি গাড়ি নিরাপদে ফিরে গেলেও শেষ মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে।

গাড়িটি কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কাভার্ডভ্যান সজোরে ধাক্কা দিলে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কনের বোন ও মামার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা নিয়াজ মোর্শেদ ও মুন্নাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় কনের বাবা মনজুর আলম ও মা নিলুফা আক্তারও গুরুতর আহত হয়েছেন। চমেক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মনজুর আলমের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিলুফা আক্তার বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বিয়ের আনন্দ শেষ হতে না হতেই পুরো ঈদগাঁও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম।

কনের মামাতো ভাই ইমন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা খুব সুন্দরভাবে শেষ হয়েছিল। ভাবতেই পারিনি এই আনন্দ নিমেষেই এমন বিষাদে রূপ নেবে। সব শেষ হয়ে গেল আমাদের।’

কর্ণফুলী থানার ওসি নুর আহমদ জানান, ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানটি পুলিশ জব্দ করেছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। চালক ও সহকারী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।