ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অগাস্টে ২৯৭ কোটি ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

সাংবাদিক

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস অগাস্টে ২৯৭ কোটি ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের অগাস্টের চেয়ে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত রেমিটেন্সের মাসিক হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায়, অগাস্টে ২৯৭ কোটি ৬৬ লাখ (২.৯৭ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাঠিয়েছিলেন ২৮৬ কোটি ৮৭ লাখ (২.৮৬ বিলিয়ন) ডলার।

রেমিটেন্সে ব্যাংকগুলো এখন প্রতি ডলারে ১২৩ টাকা দিচ্ছে। সে হিসাবে অগাস্টে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনে গড়ে এসেছে ৯ কোটি ৫৭ লাখ ডলার; টাকার অঙ্কে যা ১ হাজার ১৭৭ কোটি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অগাস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ (২.৪২ বিলিয়ন) পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ (৫.৮২ বিলিয়ন) রেমিটেন্স এসেছে দেশে। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা ‘সঙ্কটের মধ্যে’ থাকা অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। বছরজুড়েই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে উল্লম্ফন ছিল। ১২ মাসের মধ্যে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এই বছরের ৩০ জুন) ছয় মাসেই ৩০০ কোটি ডলারের বেশি এসেছিল।

অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৫০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি (২০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে মে মাসে, ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ (৩.৪২ বিলিয়ন) ডলার।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি চলতি জুলাই মাসে রেমিটেন্স বাড়ার একটি কারণ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারার কারণ প্রসঙ্গে বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময় থেকে হুণ্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমে গেছে। সবাই এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাচ্ছেন। মূলত এ কারণেই রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের মূল্য বৃদ্ধিও রেমিটেন্স বাড়ার কারণ বলে মত তার।

এদিকে রেমিটেন্সের উপর ভর করে দেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় অবস্থান করছে। এই সূচক নিয়ে আর কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই। গত ৭ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মাসের ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও সন্তোষজনক রয়েছে রিজার্ভ।

মঙ্গলবার দিন শেষে বিপিএম-৬ (আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গণনার বিশেষ পদ্ধতি) হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। গ্রস বা মোট হিসাবে এর পরিমান ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।

সবশেষ গত মে মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসাবে বর্তমানে ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাড়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে আগামী সপ্তাহে আকুর জুলাই-অগাস্ট মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে। তখন রিজার্ভ খানিকটা কমে আসবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৪:২১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০২ Time View

অগাস্টে ২৯৭ কোটি ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

আপডেটের সময় : ০৪:২১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস অগাস্টে ২৯৭ কোটি ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের অগাস্টের চেয়ে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত রেমিটেন্সের মাসিক হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এতে দেখা যায়, অগাস্টে ২৯৭ কোটি ৬৬ লাখ (২.৯৭ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাঠিয়েছিলেন ২৮৬ কোটি ৮৭ লাখ (২.৮৬ বিলিয়ন) ডলার।

রেমিটেন্সে ব্যাংকগুলো এখন প্রতি ডলারে ১২৩ টাকা দিচ্ছে। সে হিসাবে অগাস্টে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনে গড়ে এসেছে ৯ কোটি ৫৭ লাখ ডলার; টাকার অঙ্কে যা ১ হাজার ১৭৭ কোটি। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অগাস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ (২.৪২ বিলিয়ন) পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-অগাস্ট) ৫৮২ কোটি ৫৩ লাখ (৫.৮২ বিলিয়ন) রেমিটেন্স এসেছে দেশে। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা ‘সঙ্কটের মধ্যে’ থাকা অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত ৩০ জুন শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি (৩৫.৫৯ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। বছরজুড়েই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে উল্লম্ফন ছিল। ১২ মাসের মধ্যে (২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে এই বছরের ৩০ জুন) ছয় মাসেই ৩০০ কোটি ডলারের বেশি এসেছিল।

অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে এসেছিল ২৯৬ কোটি ৫০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। এটি আগের অর্থবছরের চেয়ে বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি (২০.৩৩ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল গত মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ (৩.৭৫ বিলিয়ন) ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসে মে মাসে, ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ (৩.৪২ বিলিয়ন) ডলার।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি চলতি জুলাই মাসে রেমিটেন্স বাড়ার একটি কারণ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

রেমিটেন্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারার কারণ প্রসঙ্গে বলেন, অন্তবর্তী সরকারের সময় থেকে হুণ্ডি বা অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রবণতা কমে গেছে। সবাই এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাচ্ছেন। মূলত এ কারণেই রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের মূল্য বৃদ্ধিও রেমিটেন্স বাড়ার কারণ বলে মত তার।

এদিকে রেমিটেন্সের উপর ভর করে দেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ সন্তোষজনক অবস্থায় অবস্থান করছে। এই সূচক নিয়ে আর কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই। গত ৭ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মাসের ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পরও সন্তোষজনক রয়েছে রিজার্ভ।

মঙ্গলবার দিন শেষে বিপিএম-৬ (আইএমএফের মানদণ্ড অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গণনার বিশেষ পদ্ধতি) হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। গ্রস বা মোট হিসাবে এর পরিমান ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দাবি করে।

সবশেষ গত মে মাসের আমদানির তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, ওই মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসাবে বর্তমানে ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাড়ে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। তবে আগামী সপ্তাহে আকুর জুলাই-অগাস্ট মাসের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে। তখন রিজার্ভ খানিকটা কমে আসবে।