ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাটি লিভার থাকলে যেভাবে চা পান করবেন

সাংবাদিক

সকালের শুরু কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ চা অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। কারও পছন্দ দুধ-চা, আবার কেউ পান করেন ব্ল্যাক টি বা লিকার চা। তবে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ার পর চা পান করা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে চায়ে কী মেশাচ্ছেন এবং কীভাবে চা তৈরি করছেন, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ও হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অনন্যা মুখার্জির মতে, ফ্যাটি লিভারের জন্য ব্ল্যাক টি নিজে দায়ী নয়। চায়ে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। সমস্যা তৈরি হয় মূলত চায়ে অতিরিক্ত চিনি, কনডেন্সড মিল্ক বা বেশি চর্বিযুক্ত দুধ যোগ করলে।

ব্ল্যাক টি কেন আলাদা

ব্ল্যাক টি ক্যামেলিয়া সিনেনসিস গাছের পাতা থেকে তৈরি হয়। এতে পলিফেনলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ডা. অনন্যা মুখার্জি বলেন, ব্ল্যাক টি লিভারে চর্বি জমার জন্য দায়ী নয়; বরং এর কিছু প্রাকৃতিক উপাদান লিভারের কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই ফ্যাটি লিভার থাকলেও পরিমিত ব্ল্যাক টি পান করা যায়।

চিনি মেশানো চা এড়িয়ে চলুন

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে চায়ে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা বড় সমস্যা। চিনি থেকে পাওয়া ফ্রুক্টোজের একটি অংশ লিভারে গিয়ে প্রক্রিয়াজাত হয়। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারে নতুন করে চর্বি তৈরির প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি চিনি দেওয়া চা লিভারে চর্বি জমার সমস্যাকে আরও বাড়াতে পারে। তাই চায়ে সাদা চিনি, ব্রাউন সুগার বা কনডেন্সড মিল্ক না দেওয়াই ভালো।

চা তৈরির পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনুন

চা তৈরির সময় প্রথমে ফুটন্ত পানিতে চা-পাতা ও আদা, এলাচ, লবঙ্গ বা দারুচিনির মতো মসলা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে নেওয়া যায়। এতে চায়ের স্বাদ ভালো হয়। দুধ ব্যবহার করলে ফুল-ক্রিম দুধের বদলে কম চর্বিযুক্ত দুধ ব্যবহার করা যায়। চিনি ছাড়া আমন্ড, সয়া বা ওট মিল্কও ব্যবহার করা যায়। চা বেশি মিষ্টি মনে হলে স্টিভিয়া বা মঙ্ক ফ্রুটের মতো বিকল্প মিষ্টি ব্যবহার করা যায়।

ফ্যাটি লিভার থাকলেও চা একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে চায়ে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত উপাদান কমিয়ে পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো। একই সঙ্গে সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপডেটের সময় : ০৬:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫০৩ Time View

ফ্যাটি লিভার থাকলে যেভাবে চা পান করবেন

আপডেটের সময় : ০৬:১২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকালের শুরু কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ চা অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। কারও পছন্দ দুধ-চা, আবার কেউ পান করেন ব্ল্যাক টি বা লিকার চা। তবে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ার পর চা পান করা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে চায়ে কী মেশাচ্ছেন এবং কীভাবে চা তৈরি করছেন, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ও হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. অনন্যা মুখার্জির মতে, ফ্যাটি লিভারের জন্য ব্ল্যাক টি নিজে দায়ী নয়। চায়ে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। সমস্যা তৈরি হয় মূলত চায়ে অতিরিক্ত চিনি, কনডেন্সড মিল্ক বা বেশি চর্বিযুক্ত দুধ যোগ করলে।

ব্ল্যাক টি কেন আলাদা

ব্ল্যাক টি ক্যামেলিয়া সিনেনসিস গাছের পাতা থেকে তৈরি হয়। এতে পলিফেনলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ থাকে। এসব উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ডা. অনন্যা মুখার্জি বলেন, ব্ল্যাক টি লিভারে চর্বি জমার জন্য দায়ী নয়; বরং এর কিছু প্রাকৃতিক উপাদান লিভারের কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। তাই ফ্যাটি লিভার থাকলেও পরিমিত ব্ল্যাক টি পান করা যায়।

চিনি মেশানো চা এড়িয়ে চলুন

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে চায়ে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা বড় সমস্যা। চিনি থেকে পাওয়া ফ্রুক্টোজের একটি অংশ লিভারে গিয়ে প্রক্রিয়াজাত হয়। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারে নতুন করে চর্বি তৈরির প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে নিয়মিত বেশি চিনি দেওয়া চা লিভারে চর্বি জমার সমস্যাকে আরও বাড়াতে পারে। তাই চায়ে সাদা চিনি, ব্রাউন সুগার বা কনডেন্সড মিল্ক না দেওয়াই ভালো।

চা তৈরির পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনুন

চা তৈরির সময় প্রথমে ফুটন্ত পানিতে চা-পাতা ও আদা, এলাচ, লবঙ্গ বা দারুচিনির মতো মসলা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে নেওয়া যায়। এতে চায়ের স্বাদ ভালো হয়। দুধ ব্যবহার করলে ফুল-ক্রিম দুধের বদলে কম চর্বিযুক্ত দুধ ব্যবহার করা যায়। চিনি ছাড়া আমন্ড, সয়া বা ওট মিল্কও ব্যবহার করা যায়। চা বেশি মিষ্টি মনে হলে স্টিভিয়া বা মঙ্ক ফ্রুটের মতো বিকল্প মিষ্টি ব্যবহার করা যায়।

ফ্যাটি লিভার থাকলেও চা একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে চায়ে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত উপাদান কমিয়ে পরিমিত পরিমাণে পান করাই ভালো। একই সঙ্গে সুষম খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি