শাপলা চত্বরের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ
তের বছর আগে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামির জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৭ অক্টোবর এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এদিন মামলার শুনানিতে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন বলেন, এ মামলার ৪১ আসামির মধ্যে বুধবার ১১ আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির আছেন। বাকি ৩০ জন পলাতক। তাদের আত্মসমর্পণ করার জন্য দুটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তারপরও তারা আত্মসমর্পণ করেননি। এই পলাতক ৩০ আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ পর্যায়ে আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
এদিন এ মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মন্ডল, দুই সাংবাদিক একাত্তর টিভির সাবেক এমডি মোজাম্মেল বাবু এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মাহবুব উল আলম হানিফ, মৃণাল কান্তি দাস, এস এম জাহিদ, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক তিন আইজি ড. হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ ও র্যাবের (বর্তমান এসআরবি) সাবেক প্রধান মো. মোখলেছুর রহমান।
এছাড়া রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, পুলিশের সাবেক চার অতিরিক্ত আইজি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মো. মনিরুল ইসলাম ও মো. আনোয়ার হোসেন, সাবেক ডিআইজি মহা. আশরাফুজ্জামান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, রমনা অঞ্চলের সাবেক এসি এস এম শিবলী নোমান ও মতিঝিল থানার সাবেক ওসি বি এম ফরমান আলী।
২০১৩ সালের ৫ মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৫৭ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ২৭ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতকদের নামে পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।



























হাজারীবাগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার